জান্নাতি স্বামী
*************জান্নাতি স্বামী**************
কিস্তি ১ *টুকটুকি সোনা বউ,কোথায় তুমি?প্রিয় নবীজির এ মধূর ডাক শুনে আয়িশা রা.র অভিমানে বরফ গলতে লাগলো।
1-আপনার স্ত্রীর জন্য ভালোবাসাসূচক নাম রাখুন
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "পরিবারের লোকদের জন্য আমি তোমাদের থেকে উত্তম!".. কথাটি আসলে আমাদের স্বামীদেরকে ভাবিয়ে তোলার মতো।
আজ আমাদের দাম্পত্যজীবন পুরো নীরস। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সবসময় ভালোবাসা দেখা যায়না……… অথচ এই ভালোবাসা বৃদ্ধি করার জন্য রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অনকে কিছু দারুন পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো সহধর্মিণীর জন্য ভালোবাসা সূচক কোন নাম রাখা। অর্থাৎ এমন একটা নাম রাখা যে নামে শুধু আপনিই তাঁকে ডাকবেন। যে নাম শুনলে আপনার সহধর্মিণীর ভাটাপড়া হৃদয়ে ভালোবাসার জোয়ার উঠবে। যে নাম শুনলে আপনার সহধর্মিণী আপনাকে নিয়ে দুষ্টামি করবে। হয়তো মনে করতেছেন এটা কোন প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান না। আসলে এটা আপনার ভুল ধারনা হবে। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী আয়েশা রাযিঃর ভালোবাসাসূচক ছদ্মনাম রেখেছিলেন "হুমায়রা".. হ্যাঁ, "হুমায়রা"- বলেই আয়েশা রাযিঃ কে ডাকতেন।
*আয়েশা রা.-এর মন খারাপ। প্রিয়তম মুহাম্মদ সা.-এর সঙ্গে কী একটা ঠুনকো কারণে যেনো হঠাৎই অভিমান করে বসেছেন। স্বচ্ছ কাঁচের মতো কিশোরী মন তো, একটু আঁচড়েই গভীর দাগ পড়ে যায়। তার ওপর প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেমের কাছ থেকে সামান্য দরদও বড় আনচান হয়ে বাজে হৃদয় অন্দরে। আর প্রেমিক-স্বামীটি যদি হন বিশ্বনবি, যার জন্য মাতোয়ারা আরবের ডাকসাঁইটে সুন্দরীরা, তখন তো ছোট্ট সোনালি মনটাতে ফুলের আঘাতও সইবে না!
*অভিমানে সকাল থেকে না খাওয়া। কিশোরী মুখটা এতোটুকুন হয়ে আছে মর্মযাতনায়। নবি সা.-ও সকাল থেকে ঘরে নেই। সেই যে বেরিয়েছেন আর ফেরার নামটি নেই। একা একা অভিমান আর কতোক্ষণ আগলে রাখা যায়? একজন যে তার মুখ থেকে একটু সুরেলা ডাক শোনার জন্য বসে আছে, সেদিকে কি তার কোনো খেয়াল আছে?
*বুক ফেটে কান্না আসছে, কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কাঁদতে পারছেন না। আর নবির অন্য স্ত্রীরাও যদি জানে যে এই সামান্য কারণে আয়েশা কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে, কী হাসাহাসিটাই না করবেন তারা!
তাহলে একা একা এখন কী করবেন অভিমানী আয়েশা? এ যাতনা তার যে আর সহ্য হচ্ছে না! কখন আসবেন তিনি? কখন ডাকবেন প্রিয়তম নাম ধরে?
ঘরের দরোজায় টোকা পড়লো। মুহূর্তে আয়েশার মুখে দেখা দিলো ভরা চন্দ্রিমার রোশনাই। হৃদয়টা কেমন যেনো খলবলিয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে এতোক্ষণের অভিমানে জমানো কথা সব একসঙ্গে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তিনিও কঠিন পাত্রী!
সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন স্বামী রাসুল মুহাম্মদ সা.। আয়েশা সালামের জবাব দিলেন, তবে মোটেও ফিরে তাকালেন না তাঁর দিকে। এতো সহজে হেরে যাবার পাত্রী নন তিনি। বুকভরা অভিমান এতো সস্তাদরে বিকোবেন না। মহামূল্যে কিনতে হবে আজ। তিনি অপেক্ষা করছেন।
রাসুল সা.-এর হাতে খেজুরের পাত্র। কিছুক্ষণ আগেই মাত্র এক সাহাবা তার বাগানের সবচে উমদাহ কিছু খেজুর নবি সমীপে হাদিয়া দিয়ে গেছেন। নবি সা. জানেন, এ খেজুরগুলো আয়েশার খুব পছন্দ। দেরি না করে চলে এসেছেন ঘরে। ঘরে যে আয়েশা অভিমান করে বসে আছেন, সেটাও তার অগোচর নয়। এবং তিনি ভালো করেই জানেন অভিমানী কিশোরী আয়েশার রাগ কীভাবে ভাঙাতে হয়।
: হোমায়রা পাখি! এই দেখো তোমার প্রিয় খেজুর। আল্লাহর নাম নিয়ে খেজুরগুলো খেয়ে নাও তো!
আয়েশা রা.-এর বুক থেকে সমস্ত অভিমান এক নিমেষে যেনো হাওয়া হয়ে উবে গেলো। আহ! কী মধুর করে ডাকেন তিনি!
তিনি ফিরে তাকালেন। থালা থেকে দুটো খেজুর উঠিয়ে মুখে দিতে দিতে কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, আল্লাহর নামেই তো খাবো। এতোদিন কি আমি আবার বাবার নামে খেয়েছি?
কিশোরী আয়েশার এমন ‘আচ্ছারকম’ জবাব শুনে রাসুল সা. অনেকক্ষণ ধরে হাসলেন।
[মুসতাদরাকে হাকিম:2/129]
2- আয়েশা রাযিঃ গ্লাসের যে জায়গায় ঠোঁট রেখে পানি পান করতেন ঠিক সেই জায়গায় আমাদের রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠোঁট রেখে পানি করতেন।
3-আরো কিছু সুন্নাহ আছে যেমন স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে দেওয়া। অনেকসময় এরকমও গেলো যখন রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করতেছিলেন তখন মুখের কিছু পানি স্ত্রীর মুখে ছুড়ে দিতেন। কেন? শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত বৃদ্ধির জন্য………
4-বিয়ের আগে বেগানা মহিলার সাথে যেসব কাজ করা অন্যায় এবং মারাত্মক পাপ ঠিক সেই কাজগুলো বিয়ের পরে করা সুন্নাহ। এবং প্রত্যেকটি হাসি তামাশা দুষ্টামি হলো সাদাকা… কারন, বিয়ে একটি উত্তম বন্ধুত্ব এবং ইবাদাত।,, লাজ- লজ্জা না করে আমল করুন,ফল পাবেন। এগুলো সবই সহীহ হাদীসেরই হেদায়েত।
وَأَنْفِقْ عَلَى عِيَالِكَ مِنْ طَوْلِكَ وَلَا تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَبًا وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ- أحمد 45-53
وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ- بخاري 5-4
কিস্তি ১ *টুকটুকি সোনা বউ,কোথায় তুমি?প্রিয় নবীজির এ মধূর ডাক শুনে আয়িশা রা.র অভিমানে বরফ গলতে লাগলো।
1-আপনার স্ত্রীর জন্য ভালোবাসাসূচক নাম রাখুন
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "পরিবারের লোকদের জন্য আমি তোমাদের থেকে উত্তম!".. কথাটি আসলে আমাদের স্বামীদেরকে ভাবিয়ে তোলার মতো।
আজ আমাদের দাম্পত্যজীবন পুরো নীরস। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সবসময় ভালোবাসা দেখা যায়না……… অথচ এই ভালোবাসা বৃদ্ধি করার জন্য রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অনকে কিছু দারুন পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো সহধর্মিণীর জন্য ভালোবাসা সূচক কোন নাম রাখা। অর্থাৎ এমন একটা নাম রাখা যে নামে শুধু আপনিই তাঁকে ডাকবেন। যে নাম শুনলে আপনার সহধর্মিণীর ভাটাপড়া হৃদয়ে ভালোবাসার জোয়ার উঠবে। যে নাম শুনলে আপনার সহধর্মিণী আপনাকে নিয়ে দুষ্টামি করবে। হয়তো মনে করতেছেন এটা কোন প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান না। আসলে এটা আপনার ভুল ধারনা হবে। আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী আয়েশা রাযিঃর ভালোবাসাসূচক ছদ্মনাম রেখেছিলেন "হুমায়রা".. হ্যাঁ, "হুমায়রা"- বলেই আয়েশা রাযিঃ কে ডাকতেন।
*আয়েশা রা.-এর মন খারাপ। প্রিয়তম মুহাম্মদ সা.-এর সঙ্গে কী একটা ঠুনকো কারণে যেনো হঠাৎই অভিমান করে বসেছেন। স্বচ্ছ কাঁচের মতো কিশোরী মন তো, একটু আঁচড়েই গভীর দাগ পড়ে যায়। তার ওপর প্রথম প্রেম, প্রথম প্রেমের কাছ থেকে সামান্য দরদও বড় আনচান হয়ে বাজে হৃদয় অন্দরে। আর প্রেমিক-স্বামীটি যদি হন বিশ্বনবি, যার জন্য মাতোয়ারা আরবের ডাকসাঁইটে সুন্দরীরা, তখন তো ছোট্ট সোনালি মনটাতে ফুলের আঘাতও সইবে না!
*অভিমানে সকাল থেকে না খাওয়া। কিশোরী মুখটা এতোটুকুন হয়ে আছে মর্মযাতনায়। নবি সা.-ও সকাল থেকে ঘরে নেই। সেই যে বেরিয়েছেন আর ফেরার নামটি নেই। একা একা অভিমান আর কতোক্ষণ আগলে রাখা যায়? একজন যে তার মুখ থেকে একটু সুরেলা ডাক শোনার জন্য বসে আছে, সেদিকে কি তার কোনো খেয়াল আছে?
*বুক ফেটে কান্না আসছে, কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে কাঁদতে পারছেন না। আর নবির অন্য স্ত্রীরাও যদি জানে যে এই সামান্য কারণে আয়েশা কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে, কী হাসাহাসিটাই না করবেন তারা!
তাহলে একা একা এখন কী করবেন অভিমানী আয়েশা? এ যাতনা তার যে আর সহ্য হচ্ছে না! কখন আসবেন তিনি? কখন ডাকবেন প্রিয়তম নাম ধরে?
ঘরের দরোজায় টোকা পড়লো। মুহূর্তে আয়েশার মুখে দেখা দিলো ভরা চন্দ্রিমার রোশনাই। হৃদয়টা কেমন যেনো খলবলিয়ে উঠলো। মনে হচ্ছে এতোক্ষণের অভিমানে জমানো কথা সব একসঙ্গে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তিনিও কঠিন পাত্রী!
সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন স্বামী রাসুল মুহাম্মদ সা.। আয়েশা সালামের জবাব দিলেন, তবে মোটেও ফিরে তাকালেন না তাঁর দিকে। এতো সহজে হেরে যাবার পাত্রী নন তিনি। বুকভরা অভিমান এতো সস্তাদরে বিকোবেন না। মহামূল্যে কিনতে হবে আজ। তিনি অপেক্ষা করছেন।
রাসুল সা.-এর হাতে খেজুরের পাত্র। কিছুক্ষণ আগেই মাত্র এক সাহাবা তার বাগানের সবচে উমদাহ কিছু খেজুর নবি সমীপে হাদিয়া দিয়ে গেছেন। নবি সা. জানেন, এ খেজুরগুলো আয়েশার খুব পছন্দ। দেরি না করে চলে এসেছেন ঘরে। ঘরে যে আয়েশা অভিমান করে বসে আছেন, সেটাও তার অগোচর নয়। এবং তিনি ভালো করেই জানেন অভিমানী কিশোরী আয়েশার রাগ কীভাবে ভাঙাতে হয়।
: হোমায়রা পাখি! এই দেখো তোমার প্রিয় খেজুর। আল্লাহর নাম নিয়ে খেজুরগুলো খেয়ে নাও তো!
আয়েশা রা.-এর বুক থেকে সমস্ত অভিমান এক নিমেষে যেনো হাওয়া হয়ে উবে গেলো। আহ! কী মধুর করে ডাকেন তিনি!
তিনি ফিরে তাকালেন। থালা থেকে দুটো খেজুর উঠিয়ে মুখে দিতে দিতে কপট রাগ দেখিয়ে বললেন, আল্লাহর নামেই তো খাবো। এতোদিন কি আমি আবার বাবার নামে খেয়েছি?
কিশোরী আয়েশার এমন ‘আচ্ছারকম’ জবাব শুনে রাসুল সা. অনেকক্ষণ ধরে হাসলেন।
[মুসতাদরাকে হাকিম:2/129]
2- আয়েশা রাযিঃ গ্লাসের যে জায়গায় ঠোঁট রেখে পানি পান করতেন ঠিক সেই জায়গায় আমাদের রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠোঁট রেখে পানি করতেন।
3-আরো কিছু সুন্নাহ আছে যেমন স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নিজ হাতে ভাত খাইয়ে দেওয়া। অনেকসময় এরকমও গেলো যখন রাসূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করতেছিলেন তখন মুখের কিছু পানি স্ত্রীর মুখে ছুড়ে দিতেন। কেন? শুধুমাত্র স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত বৃদ্ধির জন্য………
4-বিয়ের আগে বেগানা মহিলার সাথে যেসব কাজ করা অন্যায় এবং মারাত্মক পাপ ঠিক সেই কাজগুলো বিয়ের পরে করা সুন্নাহ। এবং প্রত্যেকটি হাসি তামাশা দুষ্টামি হলো সাদাকা… কারন, বিয়ে একটি উত্তম বন্ধুত্ব এবং ইবাদাত।,, লাজ- লজ্জা না করে আমল করুন,ফল পাবেন। এগুলো সবই সহীহ হাদীসেরই হেদায়েত।
وَأَنْفِقْ عَلَى عِيَالِكَ مِنْ طَوْلِكَ وَلَا تَرْفَعْ عَنْهُمْ عَصَاكَ أَدَبًا وَأَخِفْهُمْ فِي اللَّهِ- أحمد 45-53
وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلَّا أُجِرْتَ حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ- بخاري 5-4
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন